চাঁদাবাজির ‘নতুন ব্যাখ্যা’ নিয়ে বিতর্ক, উদ্বেগ টিআইবির



 চাঁদাবাজির ‘নতুন ব্যাখ্যা’ নিয়ে বিতর্ক, উদ্বেগ টিআইবির

ঢাকা: সদ্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের চাঁদাবাজি বিষয়ে দেওয়া নতুন ব্যাখ্যাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দুর্নীতি গবেষণা সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, চাঁদাবাজির মতো অপরাধকে ভিন্ন ব্যাখ্যায় উপস্থাপন করে বৈধতার আবরণ দেওয়ার চেষ্টা দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের পরিপন্থী।

২০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে টিআইবি উল্লেখ করে, নবগঠিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দিলেও পরিবহন খাতে বহুল আলোচিত চাঁদাবাজিকে ‘সমঝোতা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা সেই ঘোষণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে রাষ্ট্রীয় সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের বিভিন্ন খাতে দুর্নীতিকে স্বাভাবিক করার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রবন্ধে অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যের উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়েছে, আগে ঘুষকে ‘স্পিড মানি’ বা ‘সহনীয় ঘুষ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার মতো মন্তব্যও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। এসব বক্তব্য দুর্নীতিকে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তোলার প্রবণতা বাড়িয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

এদিকে বিরোধীদলীয় নেতারা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানিয়েছেন। একই প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির প্রশ্ন তুলেছেন, চাঁদার নতুন সংজ্ঞা দেওয়া হলে তা কি কার্যত বৈধতা দেওয়ার শামিল কিনা।

বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতির ভাষা বা সংজ্ঞা পরিবর্তনের মাধ্যমে বাস্তবতা আড়াল করা হলে জনমনে হতাশা তৈরি হতে পারে এবং সরকারের দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post